ভূমিকা
ইসলামী শিক্ষা শুধু ধর্মীয় জ্ঞান নয়, এটি মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও চারিত্রিক উৎকর্ষ সাধনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। বিশেষ করে একজন শিশুর চারিত্রিক গঠনে কুরআন ও হাদীসের শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। আধুনিক সমাজব্যবস্থায় যখন নৈতিক অবক্ষয় একটি বড় চ্যালেঞ্জ, তখন ইসলামী শিক্ষাই পারে একজন শিশুকে সৎ, ন্যায়বান ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে।
শিশুকালেই চারিত্রিক গঠন শুরু হয়
শিশুরা কাঁচা মাটির মতো; যেভাবে গড়বে, সেভাবেই তৈরি হবে। তাই এই বয়সেই তাদের মাঝে সত্যবাদিতা, নম্রতা, শ্রদ্ধাবোধ, সহানুভূতি ইত্যাদি গুণাবলী গড়ে তোলা প্রয়োজন। কুরআন ও হাদীসে এসব গুণের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, রাসূল (সা.) বলেছেন,
“তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যার চরিত্র উত্তম।“ (সহীহ বুখারী)
কুরআনের শিক্ষা শিশুকে আলোকিত করে
কুরআনে বিভিন্ন আয়াতের মাধ্যমে শিশুকে আল্লাহভীতি, ধৈর্য, সততা, আদব-কায়দা শেখানো যায়। শিশুকে ছোটবেলা থেকেই যদি কুরআন পাঠের অভ্যাস করানো হয়, তবে তার হৃদয়ে একধরনের প্রশান্তি ও ঈমানী শক্তি জন্ম নেয়।
সূরা লুকমান-এ একজন আদর্শ পিতার সন্তানকে কিভাবে নৈতিক ও আধ্যাত্মিক শিক্ষা দেওয়া উচিত তা বর্ণিত আছে, যা আমাদের জন্য এক চমৎকার দিকনির্দেশনা।
হাদীস শিশুদের নৈতিক শিক্ষার দিকনির্দেশনা দেয়
হাদীসে রাসূল (সা.) এর জীবনের নানা দিক থেকে শিশুরা ন্যায়বিচার, দায়িত্ববোধ, ভালোবাসা, সহানুভূতি, ও আন্তরিকতার শিক্ষা পায়। তিনি শিশুদের ভালোবাসতেন, সময় দিতেন এবং তাদের সম্মান করতেন। এই আচরণ আমাদের শেখায় যে শিশুদের সাথে কেমন আচরণ করা উচিত।
পরিবারের ভূমিকা
শিশুর প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় পরিবার থেকেই। একজন অভিভাবক যদি নিজে ইসলামী আদর্শে জীবন পরিচালনা করেন, তবে শিশুরাও সেই পথে অনুপ্রাণিত হবে। নিয়মিত নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, হাদীস শিক্ষা ও বাস্তব জীবনে তা অনুসরণের মাধ্যমে শিশুর চরিত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
উপসংহার
ইসলামী শিক্ষা একটি শিশুর জন্য শুধু পরকালের পাথেয় নয়, এটি ইহকালেও তার ব্যক্তিত্বকে উন্নত করে তোলে। কুরআন ও হাদীসভিত্তিক সঠিক দিকনির্দেশনার মাধ্যমে শিশুরা গড়ে উঠতে পারে নৈতিকভাবে সুদৃঢ়, সমাজের জন্য কল্যাণকর ও আল্লাহভীরু মানুষ হিসেবে। তাই শিশুদের চারিত্রিক গঠনে ইসলামী শিক্ষার গুরুত্ব অনস্বীকার্য।