পিতা মাতার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সন্তানের উপর কতটুকু প্রভাব ফেলে

সন্তান মানুষের জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তার আচরণ, নৈতিকতা, চিন্তাধারা এবং ব্যক্তিত্ব গঠনে পরিবারের, বিশেষ করে পিতা-মাতার ভূমিকা অনস্বীকার্য। জন্ম থেকেই সন্তান পিতা-মাতার সান্নিধ্যে বড় হতে থাকে, তাদের কাছ থেকেই প্রথম শেখে কথা বলা, আচরণ, নৈতিকতা ও সামাজিকতা। তাই পিতা-মাতার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সন্তানের জীবনে গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে।


১. নৈতিকতা ও মূল্যবোধের ভিত্তি তৈরি হয় পরিবারে

পিতা-মাতা যদি সত্যবাদী, দয়ালু, সহানুভূতিশীল ও ন্যায়পরায়ণ হন, তবে সন্তানও স্বাভাবিকভাবে সেই গুণাবলি অর্জনের চেষ্টা করে। শিশুরা অনুকরণপ্রিয় হয়ে থাকে। তারা যা দেখে, সেটাই বিশ্বাস করে এবং নিজের জীবনে প্রয়োগ করে। তাই পিতা-মাতার নৈতিক দিকনির্দেশনা ও আদর্শ আচরণ সন্তানের চরিত্র গঠনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।


২. আত্মবিশ্বাস ও মানসিক স্বাস্থ্য

পিতা-মাতার সহযোগিতা, ভালোবাসা এবং ইতিবাচক মনোভাব সন্তানের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। একজন স্নেহশীল মা-বাবা তাদের সন্তানের ভুলগুলো বুঝিয়ে শুধরে দেন, অন্যদিকে কড়া ও অবহেলাপূর্ণ আচরণ শিশুর মনে ভয়, আত্মবিশ্বাসের অভাব এবং মানসিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। পরবর্তীতে তা তার ব্যক্তিত্বের ওপর প্রভাব ফেলে।


৩. আচরণগত প্রভাব

সন্তানদের মধ্যে অনেক সময় দেখা যায়, তারা যেমন পিতা-মাতার ব্যবহার পান, তার প্রতিচ্ছবি তার আচরণে দেখা যায়। যদি পিতা-মাতা একজন অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও ভদ্র আচরণ করেন, সন্তানও তেমন শিখে। অন্যদিকে, পারিবারিক কলহ, অভদ্র ভাষা ও আগ্রাসী আচরণ শিশুকে হিংস্র বা অসামাজিক করে তুলতে পারে।


৪. শিক্ষাগত ও কর্মজীবনের লক্ষ্যে প্রভাব

পিতা-মাতার পরিশ্রম, অধ্যবসায়, শিক্ষা ও পেশাগত দৃষ্টিভঙ্গি সন্তানের ভবিষ্যৎ গঠনে অনুপ্রেরণা দেয়। একজন কর্মঠ পিতা বা শিক্ষা-অনুরাগী মাতা সন্তানের মধ্যে ভবিষ্যৎ গড়ার স্পৃহা সৃষ্টি করতে পারেন। ফলে সন্তানদের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও সফলতার পথ তৈরি হয়।


৫. নৈতিক বিচ্যুতি প্রতিরোধে ভূমিকা

যদি পিতা-মাতা নিজের জীবনে সৎ ও দায়িত্বশীল থাকেন, তবে সন্তানদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা বা নৈতিক বিচ্যুতি কম দেখা যায়। পরিবার থেকেই সন্তানের মধ্যে ‘ভালো-মন্দ’ পার্থক্য শেখানোর কাজ শুরু হয়। তাই পরিবারে যদি অনিয়ম, দুর্নীতি বা অন্যায়ের প্রশ্রয় দেওয়া হয়, তাহলে সন্তান সেটাই গ্রহণ করে।


উপসংহার

সন্তানের মানসিক, সামাজিক ও নৈতিক বিকাশে পিতা-মাতার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এক গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। সন্তান কেবল রক্তের সম্পর্ক নয়, চেতনারও প্রতিচ্ছবি। তারা যা শেখে, তা শিখে পরিবারের ছায়াতলে। তাই সমাজে একটি সুশৃঙ্খল ও নীতিবান প্রজন্ম গড়ে তুলতে চাইলে, প্রথমেই পিতা-মাতাকে নিজের চরিত্রের প্রতি যত্নশীল হতে হবে। কারণ, সন্তান গড়ার প্রথম পাঠশালা হলো পরিবার, আর প্রথম শিক্ষক হলো পিতা-মাতা।


স্লোগান:
“ভালো পিতা-মাতা হতে পারলে, ভালো সমাজ তৈরি হয়।”


Leave a Reply